চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

4.5/5 - (2 votes)

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম অনেক পুষ্টিসম্পন্ন এক খাদ্য হল চিয়া সিড বা চিয়া বীজ (chia seeds in bengali)। মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া উদ্ভিদের বীজ হলো এই চিয়া বীজ। সেন্ট্রাল আমেরিকা হল এই বীজের আদি জন্মস্থান আর সেন্ট্রাল আমেরিকার প্রাচীন অধিবাসীদের খাদ্য হিসেবেও এই বীজ ছিলো খাদ্য তালিকায়। সেন্ট্রাল আমেরিকার প্রাচীন অধিবাসীদের কাছে সোনার চেয়েও মূল্যবান ছিলো এই বীজ। তারা এই বীজকে নিজেদের সাহস ও শক্তি জোগানোর উৎস মনে করতো।

নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রংপুর

এই চিয়া বীজ দেখতে তিলের মতো, এরা সাদা ও কালো উভয় রঙের হয়। এই বীজের ভালো একটি গুণ হলো এরা সব ধরনের আবহাওয়ায় হয় এবং এদেরকে পোকামাকড় সহজে আক্রমণ করতে পারে না। অনেকেই একে ব্যাসিল সীড বা তোকমার সাথে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু চিয়া বীজ তোকমার চেয়ে আকারে ছোট।

Google News Flow Now

উৎপত্তি

চিয়া বীজ মূলত মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় জন্মালেও বাংলাদেশেও বর্তমানে এটি জন্মাচ্ছে। বাংলাদেশে গবেষকরা চিয়া বীজ দেশে আনেন। সে থেকেই বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে দেশে এই বীজকে অভিযোজনের মাধ্যম উপযোগী করার চেষ্টা করা হয়। এরপর তিন বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেশে এর সফল চাষের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। বর্তমানে দেশে এর সফল চাষ হচ্ছে।

যেকোনো ধরনের আবহাওয়ায় হওয়ার উপযোগী এই চিয়া বীজ ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা যায়। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই ফসল লাগানো যায় বা উচিৎ। তাতে ভালো ফল পাওয়া যায়। এই ফসলে পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকার কারণে এই ফসল চাষ করে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও লাভবান হওয়া সম্ভব।

কোথায় পাওয়া যায়?

বাংলাদেশেও এই চিয়া বীজ পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এত সহজপ্রাপ্য না হলেও দেশের বিভিন্ন বড় বড় দোকান বা সুপারশপে এই চিয়া সীড পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ৩০০-৪০০ টাকা দামে বাংলাদেশের বিভিন্ন বড় বড় দোকানে এটি পাওয়া যায়।

আবার কোনো কোনো দোকানে ভিন্ন দামেও এটি পাওয়া যায়। কোথাও দাম বেশি আবার কোথাও কম। মূলত ব্যাপক পরিসরে এর চাষাবাদের শুরু না হওয়ায় এটি সব জায়গায় সমান ভাবে পাওয়া যায় না এবং পাওয়া গেলেও দামের তারতম্য থেকেই যায়।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় ২০২৩ – ঘরোয়া টিপস

বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন শপেও এই বীজ পাওয়া যায়। অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী চিয়া বীজ চাইলে আপনারা অনলাইন থেকেও কিনতে পারেন। দামের তারতম্য হলেও সঠিক ভাবে বাছাই করে ভালো মানের বীজ কেনাই ভালো। কারণ এই চিয়া বীজের পুষ্টিমান অত্যন্ত উচ্চমানের।

চিয়া সীডের পুষ্টিগুণ

চিয়া বীজ একটি সুপার ফুড। এর মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। দুধে যেই ক্যালসিয়াম আছে তার চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম আছে এই চিয়া বীজে। এছাড়া আরো রয়েছে ভিটামিন সি যার পরিমাণ কমলাতে থাকা ভিটামিন সি এর চেয়ে ৭ গুণ বেশি।

এছাড়া রয়েছে আয়রন। আয়রনের পরিমাণ পালং শাকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি। পটাশিয়াম রয়েছে কলার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণে চিয়া সিডে এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড আছে স্যালমন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি পরিমাণে।

চিয়া সিডের উপকারিতা:

সুপারফুড চিয়া বীজের রয়েছে অনেক উপকারিতা। এটি একটি সুপারফুড হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রয়েছে এর অনেক উপকারিতা। এবার এর উপকারিতা গুলো জেনে নেওয়া যাক।

  • চিয়া বীজ কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়ায়।
  • এটি দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • চিয়া বীজ দেহের ওজন কমাতে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
  • এটি ডায়বেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কারণ এটি ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
  • অধিক ক্যালসিয়াম সম্পন্ন হওয়ায় হাড়ের শক্তি বৃদ্ধিতে এটির ভূমিকা রয়েছে।
  • কোলন বা মলাশয় পরিষ্কার রাখে চিয়া বীজ। ফলে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
  • প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে চিয়া সিড উপকারী।
  • যেকোনো ক্যান্সার প্রতিরোধে চিয়া সিডের উপকারিতা রয়েছে।
  • ভালো ঘুমের ক্ষেত্রেও এটি উপকার করে।
  • হজমশক্তি বাড়াতেও এই বীজ কার্যকর।
  • হাঁটুর ব্যথা ও অন্যান্য জয়েন্টের ব্যথা দূর করে এই বীজ।
  • শরীর থেকে বিষাক্ত বা টক্সিন জাতীয় পদার্থ বের করে দিতে এই বীজের ভূমিকা রয়েছে।
  • ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর করতেও চিয়া বীজ ভূমিকা রাখে।
  • গৃহপালিত পশুর খাদ্য হিসেবেও এই বীজ ব্যবহার করা যায়।
  • প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে এই বীজ।

পুষ্টিবিদ সৈয়দা শিরিনা স্মৃতির মতে চিয়া সিড খাওয়ার উপকারিতা

১। চিয়া সিডে আছে ওমেগা-৩, যা হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে

২। এটি শরীরের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বাড়ায়

৩। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় চিয়া সিড রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে

৪। মেটাবলিক সিস্টেমকে উন্নত করার মাধ্যমে এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে

৫। চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

৬। এতে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ উপকারী

৭। চিয়া সিড কোলন পরিষ্কার রাখে। ফলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে

সুজন নামের আরবি অর্থ কি

৮। এটি শরীর থেকে টক্সিন (বিষাক্ত পদার্থ) বের করে দিতে সাহায্য করে

৯। চিয়া সিড পেটের প্রদাহজনিত বা গ্যাসের সমস্যা দূর করে

১০। ভালো ঘুম হতেও সাহায্য করে চিয়া সিড

১১। এই বীজ ক্যানসার রোধ করে

১২। চিয়া সিড হজমে সহায়তা করে

১৩। চিয়া বীজ হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথা দূর করে

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম
চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম

১৪। চিয়া সিড অ্যাটেনশান ডেফিসিট হাইপার-অ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার দূর করে

১৫। এটি ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে

এই সিড খাওয়ার নিয়ম বিষয়ে পুষ্টিবিদ সৈয়দা শিরিনা স্মৃতি জানান, দ্রুত ওজন কমাতে খালি পেটে সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস পানির মধ্যে ২ চা চামচ চিয়া সিড ও ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে। খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে পানিতে সাধারণ তাপমাত্রায় ভিজিয়ে রাখতে হবে। তবে, যেহেতু চিয়া সিডের নিজস্ব কোনো স্বাদ নেই, তাই এটি যে কোনো শরবত বা স্মুদি, কাস্টার্ড, টকদই বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *