জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

Rate this post

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

আজকের আর্টিকেলের বিষয় জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম নিয়ে।৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।তখন সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত এদেশের আর্থিক ভিত্তি ছিল ভঙ্গুর।এ অবস্থায় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের খুব দরকার ছিল।

লাইক দিয়ে টাকা আয়

এমনই এক পটভূমিতে এদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য, স্বাধীনতার পূর্বে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ব্যাংককে একত্র করে নতুন ব্যাংক গঠন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।এই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে ১৯৭২ সালে পূর্ববর্তী ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেডের সাথে একত্রিত হয়ে জনতা ব্যাংক গঠন করা হয়।

এ ব্যাংকটি এখনও সগর্বে এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাংকে আপনি লেনদেন করতে পারেন নিরাপদে।এখানে আপনি আপনার অর্থ জমা করতে সঞ্চয়ী একাউন্ট খুলতে পারেন।এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের বৃত্তি, টাকা উত্তোলন, টাকা পাঠানো,বেতন তোলা ইত্যাদির জন্য একাউন্ট করতে পারেন।কিন্তু এই একাউন্ট খুলতে অনেকেই পারেন না।তাদের জন্য রয়েছে এ বিষয়ক বিস্তারিত তথ্য।

জনতা ব্যাংক ও এর একাউন্ট পরিচিতি

জনতা ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংক যা বছরের পর বছর ধরে একটি বিশ্বস্ত কর্পোরেট সংস্থা হিসেবে পরিচিত।এ ব্যাংকটি দেশের সামগ্রিক আর্থিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং সেবা প্রদানে প্রশংসার অধিকারী।

২০০৭ সালের নভেম্বর মাসে জনতা ব্যাংক জয়েন্ট স্টক অফ রেজিস্ট্রারের সাথে নিবন্ধিত হয়ে জনতা ব্যাংক লিমিটেড নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে পুনর্গঠিত হয় ।

দেশের বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনতা ব্যাংকের ৪টি শাখাসহ সারাদেশে ৯১৫টি শাখা নিয়ে ব্যাংকটি এর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।১১,৪৬৩ জন কর্মচারীর বিশাল পরিবার নিয়ে ব্যাংকটি এর ব্যবসা ও হিসাব পরিচালনা করে আসছে।এর প্রধান কার্যালয় রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে( C/A, জনতা ভবনে) অবস্থিত।

ফেসবুকে লেখালেখি করে আয়

২০১৯ সালের শেষে ব্যাংকটির কাছে আমানত ছিল ৬৯১,৪০৯,৩৭২,০৫১ টাকা, অনুমোদিত মূলধন ৩০,০০০ মিলিয়ন টাকাসহ অগ্রিম ৫৪৮,৪৭৩,৯৪১,৪৩৯ টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ২৩,১৪০ মিলিয়ন টাকা।

এ দেশের জাতীয় অর্থনীতি এবং সামাজিক সংস্কারে জনতা ব্যাংকের অবদান এত বেশি এখনও অন্য কেউ এ সাফল্যের মানদণ্ড স্পর্শ করতে পারে নি। এ ব্যাংকটি তার অবদান, প্রতিশ্রুতি এবং সাফল্যের জন্য বিভিন্ন স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

জনতা ব্যাংক একাউন্ট

আপনারা চাইলে জনতা ব্যাংকে ৪ ধরণের একাউন্ট খুলতে পারেন।যেমনঃ

১.ব্যক্তিক হিসাব খোলা

২. অ- ব্যক্তিক হিসাব

৩.সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব

৪.স্থায়ী আমানত(F.D.R),সঞ্চয়ী স্কিম ও বিশেষ স্কিম হিসাব

জনতা ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম

জনতা ব্যাংকে স্টুডেন্টরাও একাউন্ট খুলতে পারে।এজন্য কি কি করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলঃ

১.প্রথমে ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য ব্যাংক থেকে যে ফর্ম দেবে তা সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

২.স্টুডেন্টের ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।

৩.স্টুডেন্টদের এখন আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

৪.নমিনীর ১ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আনতে হবে।

৫.ঠিকানা প্রমানের জন্য বাসার বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি আনতে হবে।

৬.আবেদনকারী স্টুডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে।

৭.ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী আরও কিছু প্রমাণাদি লাগতে পারে যেগুলো ব্যাংকে গেলে জানা যাবে।

 কিভাবে ফেসবুকে প্রতিদিন 500 আয় করা যায়

জনতা ব্যাংক সেভিংস একাউন্ট

জনতা ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন।এখানে সুদের হার ৩.৭৫% (পরিবর্তনশীল-সুদের হার সংক্রান্ত সর্বশেষ সার্কুলার অনুসারে)।এ সেভিংস হিসাব জনতা ব্যাংকের যেকোন শাখায় খোলা যাবে।এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হলোঃ

১. ২(দুই) কপি পাসপোর্টসাইজের ছবি লাগবে।

২. নমিনীর ১ (এক) কপি পাসসপোর্টসাইজের ছবি লাগবে।

৩. National ID বা Passport এর ফটোকপি লাগবে।

৪. নমিনী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার জন্মসনদ লাগবে।

৫. ইউনিয়ন/উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান/সিটি কর্পোরেশন (মেয়র) কর্তৃক স্বাক্ষরিত নাগরিক সনদের কপি লাগবে।

৬. ব্যাংকের একজন গ্রাহক কর্তৃক পরিচয় প্রমাণিত হতে হবে।

৭. অন্যান্য কাগজপত্র (প্রয়োজনে) আনতে হবে।

৮.সেভিংস হিসাবের মেয়াদপূর্তির পূর্বে হিসাব বন্ধে করণীয় নোটিশ প্রদানপূর্বক/আবেদনপূর্বক একাউন্ট বন্ধ করতে হবে।

৯.বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে।

১০. এ সেভিংস হিসাবে সর্বনিম্ন ৫০০/- টাকা জমা রাখা যাবে।

জনতা ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম

জনতা ব্যাংক একাউন্ট চেক করার নিয়ম জানতে চান অনেকেই।এখন সে বিষয়টা নিয়ে জানাবো।আপনি চাইলেই জনতা ব্যাংক এর একাউন্ট এর মূল ব্যালেন্সে যখন-তখন চেক করতে পারবেন না। কারণ জনতা ব্যাংকের কিছু বিধিনিষেধ এবং নিয়ম-নীতি রয়েছে।

এ ব্যাংকের সারাদেশ জুড়ে বহু শাখা থাকলেও সব শাখায় এই ব্যালেন্স চেক করা যায় না। জনতা ব্যাংক এই সুযোগ শুধুমাত্র কয়েকটি ব্রাঞ্চ কে দিয়েছে।তারা তাদের নির্ধারিত কয়েকটি ব্রাঞ্চ সিলেক্ট করেছে এবং সেই ব্রাঞ্চের গ্রাহকরাই কেবলমাত্র এই সুযোগ উপভোগ করতে পারবেন।

আপনাকে প্রথমত আপনার নিকটস্থ ব্রাঞ্চে উপস্থিত হয়ে ব্যালেন্স দেখার ব্রাঞ্চ গুলোর লিস্ট জানতে হবে। আপনি যদি লিস্ট চেক করে দেখেন যে আপনি সেই ব্রাঞ্চ গুলোর কোনো একটির গ্রাহক তাহলেই আপনি এই সুবিধা পাবেন। তখন আপনার ব্রাঞ্চের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।

অনলাইনে জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

অনলাইনে জনতা ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হলে জনতা ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে খুলতে হবে।এজন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র,ছবি আগে থেকেই আপনাকে কম্পিউটারে স্ক্যান করে রাখতে হবে।সাথে ফর্ম পূরণের জন্য ফি প্রদানের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হবে।

জনতা ব্যাংক অনলাইন চার্জ

জনতা ব্যাংকের অনলাইন চার্জ খুবই কম।তবে এই বিষয়ে জানতে ব্যাংকে সরাসরি যোগাযোগ করলে আপনাকে ব্যাংক থেকে অনলাইন চার্জ সম্পর্কে চার্ট প্রদান করা হবে৷অথবা আরো জানতে আপনি ভিজিট করতে পারেন জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে।

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কে কতবার নিয়েছে

জনতা ব্যাংক ডিপিএস

জনতা ব্যাংকে ৫ ধরণের ডিপিএস খোলা যাবে।যেমন:-

১. অনিবাসী পেনশন স্কিম

২. জনতা হজ্ব ডিপোজিট স্কিম

৩.জনতা ডিপোজিট স্কিম

৪.জনতা ব্যাংক স্কুল ব্যাকিং

৫.জনতা ব্যাংক নারী প্রকল্প

জনতা ব্যাংকের ডিপিএস সিস্টেম সর্বোচ্চ ৫ বছরের হয়ে থাকে।এখানে সর্বনিম্ন ৫০০/- থেকে সর্বোচ্চ ৩,০০০,০০/- টাকা ডিপিএস করতে পারবেন।আর সুদের হার ৮.৫%।মাসের প্রথম দিন থেকে শেষ দিনের মধ্যে এ টাকা জমা করতে হবে।

জনতা ব্যাংক একাউন্ট ফরম

জনতা ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে হলে আপনাকে কি ধরণের হিসাব বা একাউন্ট খুলবেন সে অনুযায়ী ফরম পুরণ করতে হবে।এ ফর্ম অনলাইনে একাউন্ট করলে অনলাইনে পাবেন।আর সশরীরে ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খুললে তখন ব্যাংক থেকেই সরবরাহ করবে।

জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
জনতা ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *