Internet কি

Internet কি

5/5 - (2 votes)

Internet কি

Internet কি বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজ কর্মকে অনেক সহজ করে তুলেছে এমনকি প্রতিনিয়ত আরো সহজ করে দিচ্ছে। যার ব্যবহারে সারা বিশ্বের ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং প্রজন্মের অনেক অগ্রগতি হতেই আছে। ইন্টারনেটের অসামান্য অবদানের কারণে আজ সারা পৃথিবী একটি পরিবারের মতো হয়েছে। কিন্তু আমরা কি জানি ইন্টারনেট কী? কার মাধ্যমে ইন্টারনেট আমাদের কাছে এসেছে? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ইন্টারনেট সর্ম্পকিত বিস্তারিত অজানা তথ্য। যেমন- ইন্টারনেট কি, কাকে বলে, কত প্রকার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা অসুবিধা, অগ্রগতি আবিস্কার, কিভাবে ইন্টারনেট কাজ করে ইত্যাদি।

Nft কি – NFT কিভাবে কাজ করে

ইন্টারনেট কি

ইন্টারনেট দুটি কথার সমন্বয় যুক্ত একটি ইংরেজি শব্দ। মূলত ইথারনেট (Ethernet) থেকে ইন্টারনেট (internet) শব্দটির উৎপত্তি। ইন্টার (Enter) অর্থ হলো- ভিতরে। আর নেট (Net) অর্থ হলো- জাল। ইন্টারনেট শব্দের অর্থ “অন্তর্জাল”। যা সংযুক্ত নেটওয়ার্ক তরঙ্গের মাধ্যমে যোগাযোগের একটি সহজ পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমন- অসংখ্য কম্পিউটার কে একেওপরের সাথে যুক্ত করে তথ্য আদান প্রদান করার পদ্ধতিকে ইন্টারনেট বলা হয়। ইন্টারনেট হলো পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত অসংখ্য নেটওয়ার্কের সমম্বয়ে গঠিত একটি বিরাট নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। অনেক গুলো কম্পিউটার একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করাই ইন্টারনেট, যাকে ইন্টারনেট ওয়ার্কিংও বলা হয়।

Google News Flow Now

ইন্টারনেট কাকে বলে

অসংখ্য কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইসকে একেওপরের সাথে যুক্ত করে তথ্য আদান প্রদান করার পদ্ধতিকে ইন্টারনেট বলা হয়। ইন্টারনেট হলো আধুনিক টেলিযোগাযোগের একটি নেটওয়ার্ক বা মাধ্যম। যা অপটিক্যাল ফাইবার, টেলিফোন লাইনের তার, ওয়্যারলেস বেতার সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার মোবাইল সহ অন্যান্য সকল ডিভাইসকে ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) এর সাথে সংযুক্ত করে। ইন্টারনেটকে প্রায়ই নেট বলা হয়ে থাকে। যখন সম্পূর্ণ আইপি নেটওয়ার্কের আন্তর্জাতিক সিস্টেমকে উল্লেখ করা হয় তখন ইন্টারনেট শব্দটিকে একটি নামবাচক বিশেষ্য মনে করা হয়। ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব দৈনন্দিন কোন পার্থক্য ছাড়া ব্যবহৃত হয়। তবে ইন্টারনেট এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব একই নয়।

ইন্টারনেট কত প্রকার ও কি কি

আধুনিক ইন্টারনেট প্রথমত ৬ প্রকার। এই ছয় ধরণের প্রযুক্তি সিস্টেমে ইন্টারনেট সংযোগ কাজ করে। আজ পর্যন্ত যে ধরণের ইন্টানেট আমরা ব্যবহার করি নিচে তার নাম উল্লেখ করলাম যা আপনারা হয়ত অনেকই আইসিটি বিভাগে আগেই জেনেছেন।

  • ডায়াল-আপ ইন্টারনেট
  • ডিএসএল ইন্টারনেট
  • স্যাটেলাইট ইন্টারনেট
  • ক্যাবল ইন্টারনেট
  • ওয়ারলেস ইন্টারনেট
  • সেলুলার ইন্টারনেট

ইন্টারনেটের আবিষ্কার

ভিনটন জি কার্ফ হলো ইন্টারনেটের জনক। প্রথম ইন্টারনেট এর সূচনা হয়েছিল ১৯৬০ সালে আরপানেট (এ্যাডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি নেটওয়ার্ক) এর হাত ধরে। এটি মূলত আমেরিকান ডিফেন্সের নিজেদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ ও একটি নেটওয়ার্ক ছিল। ১৯৬৯ সালের ২৯ অক্টোবর আরপানেট প্রথম ইন্টারনেটে একটি নোড থেকে অন্য একটি নোড এ ম্যাসেজ পাঠায়। ইন্টারনেট এর সাথে সম্পর্ক যুক্ত প্রশ্ন উওর্ গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

www কি – ‎‎WWW বলতে কী বোঝায়?

ইন্টারনেট এর জনক কে?

ইন্টারনেট আমাদের জীবনে চলার গতিপথকে পাল্টে দিয়েছে, আমাদের জীবনকে কর্মচঞ্চল ও সহজ করে তুলেছে। দৈনন্দিন জীবনে চলার ক্ষেত্র ইন্টারনেটের অবদানের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ইন্টারনেটে এর উপকারের কথা আমরা সবাই জানি যা বলে শেষ করা যাবে না। কিন্তু আমরা কি জানি কে এই ইন্টারনেট আবিষ্কারক যা আমাদের জীবনের গতিপথকে পালটে দিয়েছে? যাকে আমরা ইন্টানেটের জনক হিসাবে চিনি তার নাম হলো ভিনটন জি কার্ফ তবে এই বিশাল নেটওয়ার্ক এর অন্তর্জাল ইন্টারনেট একদিনে তৈরী হয়নি, লক্ষ লক্ষ মানুষ রাত দিন কাজ করে ইন্টারনেটর বর্ত

ইন্টারনেটের ৫টি ব্যবহার

১. ডিজিটাল ই-কমার্সঃ

বর্তমানে অনলাইনে ব্যবসা বলতে ইন্টারনেট ইন্টারনেট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম যার সাহায্যে সহজেই যেকোন গ্রাহকের কাছে পৌছে কাঙিখত পণ্য বিক্রয় করা সম্ভব। ই-কমার্স ভিত্তিক যত বড়বড় ব্যবসা পদ্ধতি গড়ে উঠাছে তা সকল কিছু ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইন ব্যবসা পদ্ধতি। যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোন পণ্য সহজভাবে গ্রাহক ও বিক্রেতা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে।

২. সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ

ইন্টারনেটর অবদানে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা মুহুর্তের মধ্যেই পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যোগাযোগ করতে পারি। যেমন- ইমেইল, ভিডিও কল, অডিও কল, সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজ ইত্যাদি ইন্টারনেট ভিত্তিক সকল কমিউনিকেশন ব্যবস্থাকে বলতে পারি।

আরিয়ান নামের অর্থ

৩. অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষাঃ

আমাদের সকল ছাত্র ছাত্রীদের জীবন থেকে করনো নামক একটি ভাইরাস শিক্ষা জীবনের দুটি বছর কেড়ে নিয়েছে। তবে আমাদের শিখিয়ে গিয়েছে কিভাবে অনলাইন ভার্চুয়াল ভাবে শিক্ষা গ্রহন করা যায়। আবার দিনে দিনে অনলাইনে সকল তথ্য খোঁজার চাহিদা বেড়ে চলেছে। যার মূল কারণ বিভিন্ন প্রকাশন ও ব্লগাররা তাদের সাইটে সকল জ্ঞান মূলক তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করে আবার গুগল ইউটিউব শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অনেক উপকারে আসছে। ফলে শিক্ষার্থীরা দিনে দিনে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। জটিল বিষয় বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক সহজ ভাবে অভিজ্ঞ শিক্ষক দ্বারা করানো ক্লাস বিনামূল্যে সবার জন্য ইন্টারনেটে আপলোড করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সহজ করে তুলেছে। ফলে শিক্ষা জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার ত্রিমাত্রিক ভিডিও ও ইন্টারনেট ভিত্তিক পাঠদান খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

৪. নতুন তথ্য অনুন্ধানঃ

বর্তমানে আমরা খুব সহজেই সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে কোনো অজানা বিষয় সম্পর্কে অনেক বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। তার মধ্যে বিশেষ ভাবে গুগল ইউটিউব, কোরা, ফেইসবুক অন্যতম। এসকল সার্জ ইঞ্জিন ব্যবহার করে সকল নতুন শিক্ষা মূলক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। বলা যায় আমরা দিনে দিনে নতুন তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ ইঞ্জিন এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি।

৫. সর্বশেষ আপডেট খবরঃ

ইন্টারনেট ব্যবস্থার ফলে এখন মুহুর্তের মধ্যেই যেকোনো খবর ঘরে বসেই বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল অনলাইন টিভি, ইউটিউব, ফেইসবুক টিভির মাধ্যমে কুইক জেনে নিতে পারি। সাথে সাথে আমরা আমদের নিজেদের মতামতও তুলে ধরতে পারি। যেকারণে ইন্টারনেট দিনে দিনে এত জনপ্রিয় হচ্ছে। ইন্টারনেট আর টিভির নিউজের সাথে পার্থক্য হচ্ছে ইন্টারনেটে আমরা যেখবর দেখতে চাই সেটাই দেখতে পাই আর টিভিতে চ্যানেলগুলো যেখবর দেখায় সেটাই আমাদের দেখতে হয়। তাই দিনে দিনে টিভি চ্যানেল গুলো পিছিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার

বর্তমানে যেকোন দেশের শিক্ষার আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে ইন্টারনেট তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে শিক্ষাভিত্তিক অনেক ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে, প্রতিনিয়ত হচ্ছে ফলে সাইটগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে উপকৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে প্রথমে একটি কম্পিউটার বা স্মার্ট ডিভাইস দরকার। ইদানীং মোবাইল টেলিফোন প্রযুক্তিতে অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন শিক্ষণীয় অনেক বিষয় ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখায় কোনো একটা বিষয় বুঝতে না পারলে সে যদি ইন্টারনেটে সেটি অনুসন্ধান করে সঙ্গে সঙ্গেই সেটা পেয়ে যাচ্ছে।

Internet কি
Internet কি

শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব

প্রাথমিক শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে, কোন ছাত্র যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে শিখতে চায়, জানতে চায় সে ইন্টারনেটে তা খুঁজে নিতে পারে। এ জন্য বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনের পাশাপাশি অত্যন্ত দক্ষ সার্চ ইঞ্জিনও তথ্য প্রযুক্তিবিদরা তৈরি করেছেন। তবে এ সার্চ ইঞ্জিনগুলো ব্যবহার করার জন্য ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। গণিতের অত্যন্ত চমৎকার কিছু সাইট রয়েছে, যেখানে গণিতের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাতে-কলমে দেখার জন্যও সাইট রয়েছে। উৎসাহী মানুষরা নানা বিষয়ে গ্রুপ তৈরি করে রেখেছেন, তাদের কাছে যে কোনো প্রশ্ন দেওয়া হলে তারা উত্তর দিতে পারবেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গুরুত্ব ব্যাখ্যা

বাংলায় শিক্ষা দেওয়ার জন্যও ইন্টারনেটে অত্যন্ত চমৎকার কিছু সাইট রয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে ইন্টারনেট শব্দটি জুড়ে দিলেও মনে রাখতে হবে, কেউ যেন মনে না করে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ বা ইন্টানেটে খুব ভালো কনটেন্ট থাকলেই রাতারাতি শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় খুব ভালো হয়ে যাবে। বাংলাদেশের আধুনিক শিক্ষার একটি তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদনসহ যাবতীয় কাজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়। তা ছাড়া বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে থাকে

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *